রাজ্য নদীয়া
রাজ্যনদীয়া
দারিদ্রতা থেকে নদীয়া জেলার উচ্চমাধ্যমিকে প্রতিভার বিকাশ

শান্তিপুর :- নদীয়া জেলার শান্তিপুর ব্লকের ফুলিয়া চটকাতলা এলাকায় এবছরের উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা অন্বেষণে যাওয়ার সময় বড় বড় অট্টালিকা, স্বনামধন্য কাপড়ের ব্যবসায়ীর ঝাঁ চকচকে গ্লঝসাইন বোর্ড পার করে ফুলিয়া বাসষ্ট্যান্ড পাড়ায় এক টিনের বাড়িতে খুঁজে পাওয়া গেলো প্রতিভা।
পেশায় তাঁত শ্রমিক নিখিল বসাকের একমাত্র সন্তান সুমিত বসাক ফুলিয়া শিক্ষানিকেতন বিদ্যালয় থেকে এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে 485 নম্বর পেয়েছে। সারাদিনে তাঁত বুনে মজুরি হিসেবে দৈনিক100 টাকা পেয়ে কোনরকমে সংসার চালান নিখিল বাবু।
সুস্মিতা খুব ভালো ছবি আঁকতো, বাবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বুঝে সেশখ থেকেও দূরে সরিয়ে রেখেছিলো নিজেকে। সুস্মিতার মায়ের কথা অনুযায়ী মেয়ে বড়ই অভিমানী বাবার আর্থিক সংগতির কথা ভেবেই এবার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার অদম্য ইচ্ছা হয়তো সরিয়ে রাখবে দূরে।
তবে আমি আত্মবিশ্বাসী এ ব্যাপারে কেউ সহযোগিতা করলে অনিশ্চিত সাফল্য পাবে। 97.4 শতাংশ নম্বর পেয়ে ফুলিয়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে সুস্মিতা এবছর শান্তিপুরের মধ্যে প্রথম হয়েছে।অন্যদিকে নৃরসিংহ পুর এলাকার অর্জুন বিশ্বাসের কন্যা অর্পিতা বিশ্বাস এবছর রাধারাণী নারী শিক্ষা মন্দির থেকে 481 নাম্বার পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে।
ধানের আড়তের অস্থায়ী কর্মচারী অর্জুন বাবু জানান আমাদের মতো ঘরে পড়াশোনার খরচ যোগান দেওয়া দুঃসাধ্য। তবুও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে এই বয়সেও কর্মঠ হয়ে উঠেছিলাম অনেকটাই। কিন্তু লক ডাউনে নূন্যতম আয়ের উপায় টাও বন্ধ হয়ে গেল! এখন দুশ্চিন্তায় মেয়ের ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছা পূরণ করতে পারব তো??